Showing posts with label চিরকুট. Show all posts
Showing posts with label চিরকুট. Show all posts
0
By
Nihar Sarkar
ছুটির দিনে ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো । সোম থেকে শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের ঘুম ভাঙ্গিয়েছি দুম দাম শব্দে । পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো !
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল । বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি । হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো । মনে মনে একটু হেসে নিলাম।
এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই কিন্তু সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই নিয়ে নিল একটা করে । আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?" । মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট ভাবে জবাব দিল "রোহিত" । ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই খেলছিলো , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " । সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।
এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়। শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে । মিষ্টি করে ডাকলে ওই বোকা বোকা নামটাই যেন বেশ লাগে এখন । এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব । কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।
চকলেট আঙ্কেল
ছুটির দিনে ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো । সোম থেকে শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের ঘুম ভাঙ্গিয়েছি দুম দাম শব্দে । পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো !
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল । বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি । হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো । মনে মনে একটু হেসে নিলাম।
এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই কিন্তু সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই নিয়ে নিল একটা করে । আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?" । মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট ভাবে জবাব দিল "রোহিত" । ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই খেলছিলো , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " । সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।
এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়। শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে । মিষ্টি করে ডাকলে ওই বোকা বোকা নামটাই যেন বেশ লাগে এখন । এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব । কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।
1
By
Nihar Sarkar
জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।
দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি ।
পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
মনময়ুরী
জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।
দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি ।
পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
0
By
Nihar Sarkar
প্রথম চিঠি
প্রিয় ময়ূরী ,
আশা করি এখন তুই ভালোই আছিস । তোকে অনেক দিন থেকে এটা লিখবো ভেবেছিলাম , সাহস হয়নি কোনদিন । আজ আর না লিখে পারলাম না রে । ভুল ভাবিস না প্লিজ ।
হ্যা , আমি তোকে ভালোবাসি । সেই প্রথম যেদিন দেখেছিলাম ,সেদিন থেকেই । প্রেমটা বড় অদ্ভুৎ জানিস ! মানুষটাকে পুরো পালটে দেয় । আগে সন্ধ্যা বেলা মাঠে বসে বন্ধু দের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেশ লাগতো , এখনো মাঠে যাই কিন্তু আড্ডা টা আর জমে না । মাঠের কোনে বাদাম গাছ টায় হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি । বসন্তের সন্ধ্যায় দখিনা হাওয়া আমার মনটাকে দুলিয়ে চলে যায় । আকাশের দিকে তাকিয়ে গুটি কয়েক মেঘের কুন্ডলি আর একগুচ্ছ মিটমিটে তারার মাঝে যখন নিরেট গোল পূর্ণিমার চাঁদ টাকে দেখি , তখন বুকের ভেতর টা এক অজানা কারনে খুশি তে ভরে ওঠে । তোর মুখ টা আমি ওই চাঁদের মধ্যে দেখতে পাই । যেন তুই একগাল হেসে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস । গাছের পাতার ফাক দিয়ে চাঁদের আলো এসে যখন আমার গায়ে পরে , মনে হয় তুই যেন জরিয়ে ধরেছিস আমায় । নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় যখন গাছের পাতা গুলো হাওয়ায় দুলে একটু শব্দ করে , মনে হয় তুই যেন আমার কানে কানে কিছু একটা বলে গেলি । মেঘ , চাঁদ , হাওয়া , পাতা এসব আগেও ছিল কিন্তু ওরা এর আগে কোনোদিন আমায় অবাক করেনি এরকম । আগে শুধু অগুলোকে দেখতাম , এখন অনুভব করতে পারি নিজের মধ্যে ।
স্কুলে রোজ যখন তুই পড়া শুনিস মন দিয়ে , আমি তখন শেষ বেঞ্চ থেকে মন দিয়ে শুধু তোর দিকে তাকিয়ে থাকি । পড়া আর আজকাল শোনা হয় না । স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশানে তোর আবৃতি করা কবিতা টা আমি পুরোটা মুখস্ত করে নিয়েছি , একদিন তোকে শোনাবো বলে । এখন আমি রোজ তারাতারি ঘুম থেকে উঠি তোকে দেখার জন্য । রোজ সকালে যখন আমার বাড়ির সামনে থেকে টিউশন যাস আমি ছাদ থেকে উকি মেরে দেখি । মা একটু অবাক হয়েছেন এখন রোজ এত তারাতারি ঘুম থেকে ওঠার জন্য । তোর একটা রুমাল হয়তো হারিয়ে গেছে তাইনা ? ওটা তুই ক্লাসে ফেলে রেখে গেছিলি । আমার কাছে ই আছে এখন , যত্ন করে রেখে দিয়েছি ওটা ।
সেদিন তোকে আমি পুকুর ধারে দেখেছিলাম , যখন তুই ঘাটের পারে বসে জলে পা দোলাচ্ছিলি আর গুন গুন করে কি যেন একটা গাইছিলি । তোর জলে ভেজা পায়ে নূপুর টা হিরে বসানো গয়নার থেকেও বেশি সুন্দর লেগেছিল আমার । মনে হয়েছিল , জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে একবার ছুয়ে আসি তোকে । গলাপি ঠোঁটে হাসি মুখ টা কিছুতেই ভুলতে পারিনি এখনো । মনে হয়েছিলো তোর কলে মাথা দিয়ে শুয়ে জীবনের সব একাকীত্ত জলাঞ্জলি দিয়ে দি । তুই যেন তখন আমার দিকে তাকিয়ে আমার মাথায় হাথ বুলিয়ে দিস । নাহয় কিছুক্ষন দুজনে দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকব একদৃষ্টে । পৃথিবীর সব বাধা বিঘ্ন উপেক্ষা করে আমি একবার জরিয়ে ধরব তোকে ।
অগোছালো জীবন টা একটু গোছাতে শিখেছি এখন । আগে বাবার মার খুব ভয় পেতাম , এখন তোকে হারানোর ভয়টা সেটার থেকেও অনেক অনেক বেশি । ভালোবাসা সত্যিই মানুষকে পালটে দেয় । তোর উত্তরের আশায় রইলাম ।
আশা করি এখন তুই ভালোই আছিস । তোকে অনেক দিন থেকে এটা লিখবো ভেবেছিলাম , সাহস হয়নি কোনদিন । আজ আর না লিখে পারলাম না রে । ভুল ভাবিস না প্লিজ ।
হ্যা , আমি তোকে ভালোবাসি । সেই প্রথম যেদিন দেখেছিলাম ,সেদিন থেকেই । প্রেমটা বড় অদ্ভুৎ জানিস ! মানুষটাকে পুরো পালটে দেয় । আগে সন্ধ্যা বেলা মাঠে বসে বন্ধু দের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেশ লাগতো , এখনো মাঠে যাই কিন্তু আড্ডা টা আর জমে না । মাঠের কোনে বাদাম গাছ টায় হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি । বসন্তের সন্ধ্যায় দখিনা হাওয়া আমার মনটাকে দুলিয়ে চলে যায় । আকাশের দিকে তাকিয়ে গুটি কয়েক মেঘের কুন্ডলি আর একগুচ্ছ মিটমিটে তারার মাঝে যখন নিরেট গোল পূর্ণিমার চাঁদ টাকে দেখি , তখন বুকের ভেতর টা এক অজানা কারনে খুশি তে ভরে ওঠে । তোর মুখ টা আমি ওই চাঁদের মধ্যে দেখতে পাই । যেন তুই একগাল হেসে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস । গাছের পাতার ফাক দিয়ে চাঁদের আলো এসে যখন আমার গায়ে পরে , মনে হয় তুই যেন জরিয়ে ধরেছিস আমায় । নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় যখন গাছের পাতা গুলো হাওয়ায় দুলে একটু শব্দ করে , মনে হয় তুই যেন আমার কানে কানে কিছু একটা বলে গেলি । মেঘ , চাঁদ , হাওয়া , পাতা এসব আগেও ছিল কিন্তু ওরা এর আগে কোনোদিন আমায় অবাক করেনি এরকম । আগে শুধু অগুলোকে দেখতাম , এখন অনুভব করতে পারি নিজের মধ্যে ।
স্কুলে রোজ যখন তুই পড়া শুনিস মন দিয়ে , আমি তখন শেষ বেঞ্চ থেকে মন দিয়ে শুধু তোর দিকে তাকিয়ে থাকি । পড়া আর আজকাল শোনা হয় না । স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশানে তোর আবৃতি করা কবিতা টা আমি পুরোটা মুখস্ত করে নিয়েছি , একদিন তোকে শোনাবো বলে । এখন আমি রোজ তারাতারি ঘুম থেকে উঠি তোকে দেখার জন্য । রোজ সকালে যখন আমার বাড়ির সামনে থেকে টিউশন যাস আমি ছাদ থেকে উকি মেরে দেখি । মা একটু অবাক হয়েছেন এখন রোজ এত তারাতারি ঘুম থেকে ওঠার জন্য । তোর একটা রুমাল হয়তো হারিয়ে গেছে তাইনা ? ওটা তুই ক্লাসে ফেলে রেখে গেছিলি । আমার কাছে ই আছে এখন , যত্ন করে রেখে দিয়েছি ওটা ।
সেদিন তোকে আমি পুকুর ধারে দেখেছিলাম , যখন তুই ঘাটের পারে বসে জলে পা দোলাচ্ছিলি আর গুন গুন করে কি যেন একটা গাইছিলি । তোর জলে ভেজা পায়ে নূপুর টা হিরে বসানো গয়নার থেকেও বেশি সুন্দর লেগেছিল আমার । মনে হয়েছিল , জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে একবার ছুয়ে আসি তোকে । গলাপি ঠোঁটে হাসি মুখ টা কিছুতেই ভুলতে পারিনি এখনো । মনে হয়েছিলো তোর কলে মাথা দিয়ে শুয়ে জীবনের সব একাকীত্ত জলাঞ্জলি দিয়ে দি । তুই যেন তখন আমার দিকে তাকিয়ে আমার মাথায় হাথ বুলিয়ে দিস । নাহয় কিছুক্ষন দুজনে দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকব একদৃষ্টে । পৃথিবীর সব বাধা বিঘ্ন উপেক্ষা করে আমি একবার জরিয়ে ধরব তোকে ।
অগোছালো জীবন টা একটু গোছাতে শিখেছি এখন । আগে বাবার মার খুব ভয় পেতাম , এখন তোকে হারানোর ভয়টা সেটার থেকেও অনেক অনেক বেশি । ভালোবাসা সত্যিই মানুষকে পালটে দেয় । তোর উত্তরের আশায় রইলাম ।
~ইতি অনিরুদ্ধ
1
By
Nihar Sarkar
একলা মেয়েটা
মেয়েটা খুবই একা কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়না । সে ও চেয়েছিল বাকি সবার মতো জীবনের তালে তাল মেলাতে । যৌবনের প্রথম আধ্যায় তে আরও পাঁচটা মেয়ের মতো সে ও জীবনজোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল একটু প্রেমের আশায় । ভালোবাসা কতোটা পেয়েছিলো তা জানিনা তবে দুঃখ অনেকটা পেয়েছিলো সে । তাই বোধয় আজ ভালোবাসার প্রতি কোন ভালোবাসা নেই তার ।
জীবন তাকে শিক্ষা দিয়েছে কঠোর ভাবে , সে শিক্ষা কোন বইতে পাওয়া যায় না । রাতে চোখ বন্ধ করে শুয়ে যখন ঘুম আসেনা তখন স্মৃতি গুলো আবার নারা দিয়ে ওঠে বার বার । অনেক কষ্ট করে সেগুলোকে সরিয়ে রেখে একটু ঘুমোবার চেষ্টা করে । মাঝে মাঝে ভাবে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করবে কিন্তু কোন এক অজানা ভয় তাকে বার বার আটকে দেয় । আগের মতো কষ্ট পেতে সে আর চায় না ।
রূপকথায় পড়া স্বাপ্নের রাজকুমার খুজেছিল সে একদিন , কিন্তু ভুলে গেছিলো যে , সে নিজে কোন রাজকন্যা নয় । তাই রাজসুখ টা তার কপালে নেই । এখন সে বুঝেছে সব তাই কোন রাজকুমারের প্রতি তার আর মোহ নেই । ধুলো মাখা অগোছালো গারিব ছেলে টা আজ তার কাছে রাজকুমারের থেকে বেশি মুল্যবান ।
জীবন তাকে শিক্ষা দিয়েছে কঠোর ভাবে , সে শিক্ষা কোন বইতে পাওয়া যায় না । রাতে চোখ বন্ধ করে শুয়ে যখন ঘুম আসেনা তখন স্মৃতি গুলো আবার নারা দিয়ে ওঠে বার বার । অনেক কষ্ট করে সেগুলোকে সরিয়ে রেখে একটু ঘুমোবার চেষ্টা করে । মাঝে মাঝে ভাবে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করবে কিন্তু কোন এক অজানা ভয় তাকে বার বার আটকে দেয় । আগের মতো কষ্ট পেতে সে আর চায় না ।
রূপকথায় পড়া স্বাপ্নের রাজকুমার খুজেছিল সে একদিন , কিন্তু ভুলে গেছিলো যে , সে নিজে কোন রাজকন্যা নয় । তাই রাজসুখ টা তার কপালে নেই । এখন সে বুঝেছে সব তাই কোন রাজকুমারের প্রতি তার আর মোহ নেই । ধুলো মাখা অগোছালো গারিব ছেলে টা আজ তার কাছে রাজকুমারের থেকে বেশি মুল্যবান ।
0
By
Nihar Sarkar
আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমায় পাগল ভাবে । আগে একটু খারাপ লাগতো ঠিক ই কিন্তু এখন এটাকে ই উপভোগ করি । পাগলামি টা আজকাল মস্তিস্ক থেকে অস্থি সব জায়গায় ছেয়ে গেছে । আর পাঁচ জন লোকের মতো সাধারন ভাবে জীবন জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়া টা কোনো দিন ই আমার স্বভাবে ছিল না । এই মহানাগারী তে রোজ কতো লোক দেখি , তাদের চেহারা আর পোষাক টা বাদ দিয়ে বাকি সবটুকুর মধ্যে কতো মিল । সবাই একে অপরের থেকে নকল করতে ব্যাস্ত । সেই বিরাট জনসমূদ্রে দারিয়ে একটু আলাদা হয়ে থাকাটা খুব আনন্দের । সবাই জীবন যুদ্ধে ব্যাস্ত , শুধু সবার যুদ্ধের ধরন টা একটু আলাদা ।
আজকাল অনেকে এরিয়ে যাবার চেষ্টা করে । তাদের কেও জানাই ধন্যবাদ , কারন তাদের জন্য আমি আবার নতুন করে কিছু জিনিস ভাবার সুযোগ পাই । তোরা ভালো , তোরা ভালো ই থাক । বেশি ভালো হতে গিয়ে নিজেকে পালটাতে পারবো না রে !
তোরা ভালো থাক
আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমায় পাগল ভাবে । আগে একটু খারাপ লাগতো ঠিক ই কিন্তু এখন এটাকে ই উপভোগ করি । পাগলামি টা আজকাল মস্তিস্ক থেকে অস্থি সব জায়গায় ছেয়ে গেছে । আর পাঁচ জন লোকের মতো সাধারন ভাবে জীবন জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়া টা কোনো দিন ই আমার স্বভাবে ছিল না । এই মহানাগারী তে রোজ কতো লোক দেখি , তাদের চেহারা আর পোষাক টা বাদ দিয়ে বাকি সবটুকুর মধ্যে কতো মিল । সবাই একে অপরের থেকে নকল করতে ব্যাস্ত । সেই বিরাট জনসমূদ্রে দারিয়ে একটু আলাদা হয়ে থাকাটা খুব আনন্দের । সবাই জীবন যুদ্ধে ব্যাস্ত , শুধু সবার যুদ্ধের ধরন টা একটু আলাদা ।
আজকাল অনেকে এরিয়ে যাবার চেষ্টা করে । তাদের কেও জানাই ধন্যবাদ , কারন তাদের জন্য আমি আবার নতুন করে কিছু জিনিস ভাবার সুযোগ পাই । তোরা ভালো , তোরা ভালো ই থাক । বেশি ভালো হতে গিয়ে নিজেকে পালটাতে পারবো না রে !
6
By
Nihar Sarkar
আমি মধ্যবিত্ত বাঙালি , যার মাসের শেষ কটা দিন চলে পরের মাসের মাইনের অপেক্ষায় । যে মাস গুলো ৩১ দিনে , সেগুলোর শেষের একটা বেশি দিন চালাতে পকেটে টান পরে । আমি সেই বাঙালি যারা ট্যাক্সি চরার আগে পকেটে হাথ দিয়ে দুবার ভাবে । আমাদের কাছে ঘুরতে জাওয়া মানে পুরী আর বাইরে খাওয়া মানে ঝালমুড়ি । আমি সেই লোক , যে বড় পাঁচতারা হোটেলের সামনে থেকে যাবার সময় সেদিকে তাকিয়ে ভাবে " একদিন আমিও আসব এখানে " । কিন্তু সেই একদিন টা আর কোনদিন আসে না । সিগারেট টা আমাদের কাছে বিলাসিতা তাই বিড়ি ধরাতে ধরাতে দোকানের সিগারেটের প্যাকেট টার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নি । অফিসের বড়বাবু যখন নতুন স্মার্টফোন কিনে সেটা সবাইকে দেখায় তখন আমি আমার পকেটে হাথ দিয়ে পুরনো সাদাকালো ফোনটা তে একবার হাথ বুলিয়ে নি , একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে আসে ।
বিপিন গাঙ্গুলি স্ট্রিট এর আমার বাড়ি টার আমার ই মত জরাজীর্ণ দশা । বর্ষাকাল টা খুব কষ্টের , ছাদ থেকে জল চুয়ে পরে দেয়াল বেয়ে , মেরামতির টাকা টুকু জোগার করা হয়ে ওঠে না । অফিসের জুতোটা আজ তিন বছর হয়ে গেছে , তালি দিয়ে দিয়ে জুতোটার আসল অংশ আর কিছু বাকি নাই । মুচি টাও আর সেলাই করতে চায় না , বলে " নতুন কিনে নিন বাবু " । রোজ দোকানের সামনে গিয়ে ভাবি পরের মাসের মাইনে টা পেলে আমিও একটা ভালো জুতো কিনব , কিন্তু কেনা হয়না । জুতোর টাকা ছেলের নতুন বই কিনতে দিয়ে দিতে হয় , ভাবি এই মাস টাও সেলাই করেই চালিয়ে দেব । মেয়ে টা বড় হয়েছে , বিয়ে দিতে তো অনেক খরচা তাই প্রতি মাসে টাকা জমাতে হয় । আমার জামা টা পুরনো রংচটা , তাতে কি ! মেয়েটাকে একটা লাল বেনারসি দেবো , সেদিন দেখে এসেছি । দারুন মানাবে ওকে । ছেলেটার মাথা ভালো লেখাপরায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পরার ইচ্ছে ওর । কিন্তু অতো টাকা কোথায় পাই ! রাতে বিছানায় শুয়ে মনকে সান্তনা দি " ভগবান সব ঠিক করে দেবে " ।
আমাদের মত লকেদের বোধহয় স্বপ্ন দেখাও পাপ , কিন্তু স্বপ্ন আমার ও ছিল । বড় ফ্ল্যাট গুলোর সামনে দারিয়ে ভাবতাম একদিন আমার ও এখানে ঠাই হবে । আর পাঁচটা লোকের মত আমার ও স্বপ্ন ছিল একটা গাড়ি কেনার কিন্তু বাস ট্রাম এর ভিরে কখন যেন সেই গাড়ি কেনার স্বপ্নটাই হারিয়ে গেছে ।
তবু আমি স্বপ্ন দেখা ছারি না , হয়ত একদিন সকালে উঠে দেখব আমিও বড়লোক হয়ে গেছি । বড় একটা বাড়ি , দু তিনটে গাড়ি , চারিদিকে চাকর বাকর , দামি দামি জিনিসে আমার ঘড় সাজানো । এই ছোট্ট আশাটা ই তো আমায় এগিয়ে চলার শক্তি যোগায় ।
অনেক স্বপ্ন
আমি মধ্যবিত্ত বাঙালি , যার মাসের শেষ কটা দিন চলে পরের মাসের মাইনের অপেক্ষায় । যে মাস গুলো ৩১ দিনে , সেগুলোর শেষের একটা বেশি দিন চালাতে পকেটে টান পরে । আমি সেই বাঙালি যারা ট্যাক্সি চরার আগে পকেটে হাথ দিয়ে দুবার ভাবে । আমাদের কাছে ঘুরতে জাওয়া মানে পুরী আর বাইরে খাওয়া মানে ঝালমুড়ি । আমি সেই লোক , যে বড় পাঁচতারা হোটেলের সামনে থেকে যাবার সময় সেদিকে তাকিয়ে ভাবে " একদিন আমিও আসব এখানে " । কিন্তু সেই একদিন টা আর কোনদিন আসে না । সিগারেট টা আমাদের কাছে বিলাসিতা তাই বিড়ি ধরাতে ধরাতে দোকানের সিগারেটের প্যাকেট টার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নি । অফিসের বড়বাবু যখন নতুন স্মার্টফোন কিনে সেটা সবাইকে দেখায় তখন আমি আমার পকেটে হাথ দিয়ে পুরনো সাদাকালো ফোনটা তে একবার হাথ বুলিয়ে নি , একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে আসে ।
বিপিন গাঙ্গুলি স্ট্রিট এর আমার বাড়ি টার আমার ই মত জরাজীর্ণ দশা । বর্ষাকাল টা খুব কষ্টের , ছাদ থেকে জল চুয়ে পরে দেয়াল বেয়ে , মেরামতির টাকা টুকু জোগার করা হয়ে ওঠে না । অফিসের জুতোটা আজ তিন বছর হয়ে গেছে , তালি দিয়ে দিয়ে জুতোটার আসল অংশ আর কিছু বাকি নাই । মুচি টাও আর সেলাই করতে চায় না , বলে " নতুন কিনে নিন বাবু " । রোজ দোকানের সামনে গিয়ে ভাবি পরের মাসের মাইনে টা পেলে আমিও একটা ভালো জুতো কিনব , কিন্তু কেনা হয়না । জুতোর টাকা ছেলের নতুন বই কিনতে দিয়ে দিতে হয় , ভাবি এই মাস টাও সেলাই করেই চালিয়ে দেব । মেয়ে টা বড় হয়েছে , বিয়ে দিতে তো অনেক খরচা তাই প্রতি মাসে টাকা জমাতে হয় । আমার জামা টা পুরনো রংচটা , তাতে কি ! মেয়েটাকে একটা লাল বেনারসি দেবো , সেদিন দেখে এসেছি । দারুন মানাবে ওকে । ছেলেটার মাথা ভালো লেখাপরায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পরার ইচ্ছে ওর । কিন্তু অতো টাকা কোথায় পাই ! রাতে বিছানায় শুয়ে মনকে সান্তনা দি " ভগবান সব ঠিক করে দেবে " ।
আমাদের মত লকেদের বোধহয় স্বপ্ন দেখাও পাপ , কিন্তু স্বপ্ন আমার ও ছিল । বড় ফ্ল্যাট গুলোর সামনে দারিয়ে ভাবতাম একদিন আমার ও এখানে ঠাই হবে । আর পাঁচটা লোকের মত আমার ও স্বপ্ন ছিল একটা গাড়ি কেনার কিন্তু বাস ট্রাম এর ভিরে কখন যেন সেই গাড়ি কেনার স্বপ্নটাই হারিয়ে গেছে ।
তবু আমি স্বপ্ন দেখা ছারি না , হয়ত একদিন সকালে উঠে দেখব আমিও বড়লোক হয়ে গেছি । বড় একটা বাড়ি , দু তিনটে গাড়ি , চারিদিকে চাকর বাকর , দামি দামি জিনিসে আমার ঘড় সাজানো । এই ছোট্ট আশাটা ই তো আমায় এগিয়ে চলার শক্তি যোগায় ।
2
By
Nihar Sarkar
একলা রাতে
রাত শেষ হতে তখন বেশি বাকি নেই কিন্তু ঘুম আসে না চোখে । কোন দুর ঝোপ থেকে আসা ঝিঝি র ডাক নিস্তব্ধ রাতকে আবার জাগিয়ে তোলে । মাঝে মাঝে একটা দমকা হাওয়া এসে জানালা টাকে নারিয়ে চলে যায় । জানালার কাঁচ থেকে আসা হাল্কা চাঁদের আলো যখন অন্ধকার কে উপেক্ষা করে উকি দেয় আমি তখন চুপ করে শুয়ে থাকি তোর অপেক্ষায় । জানি তুই আসবি না , তাও এক অজানা কারনে অপেক্ষা । অন্ধকারের মাঝেও তোর মুখ টা পরিস্কার ভেসে ওঠে। কোন অদৃশ্য রুপে তুই যেন ছুয়ে চলে যাস আমায় । গা কাঁটা দেয় তোর ছোঁয়া তে , কিন্তু কোথায় তুই ? ছোঁয়া টা তো মনের ব্যামো আর মন টা তো বরোই অবুঝ ।
সারা দিনের ক্লান্তির সঙ্গে স্মৃতি গুলো যুদ্ধ করে যায়। স্মৃতি গুলো দেয়না ঘুমোতে আর ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসে । অবশেষে ক্লান্তির জয় হয় , ঘুম নেমে আসে চোখে ।
কিন্তু স্মৃতি গুলো স্বপ্ন হয়ে তখনো তারা করে বেরায় ।
সারা দিনের ক্লান্তির সঙ্গে স্মৃতি গুলো যুদ্ধ করে যায়। স্মৃতি গুলো দেয়না ঘুমোতে আর ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসে । অবশেষে ক্লান্তির জয় হয় , ঘুম নেমে আসে চোখে ।
কিন্তু স্মৃতি গুলো স্বপ্ন হয়ে তখনো তারা করে বেরায় ।
Subscribe to:
Posts (Atom)



