0

তোমায় যদি পাই

By

  তোমায় যদি পাই ইট পাথরঘেরা জঞ্জাল ছেড়ে কোন সবুজ দেশে যেতে চাই |হয়তো বাড়িতে কোনো লিফট থাকবে না, থাকবে না লম্বা সিরি ,মাটির দেওয়ালে ঘরের ছাউনি ই থাকুক, সেথায় যেতে চাই | ছোট্ট একটা ঘর পুরনো কিছু আসবাব আর দক্ষিণ মুখে একটা জানালা, তাও যেতে চাই। নড়বড়ে জানালার তালি দেয়া পর্দার ফাঁক দিয়ে একটু দক্ষিণের হাওয়া আসবে , এসি আমি চাইনা |


 লাখ টাকায় কেনা গাড়ি চাইনা, ঘরের সামনে চাই একটা ছোট্ট বাগান | যেখানে দুজনেই পরিপাটি করে সাজাবো কত গাছ | গাদা, টগর, চন্দ্রমল্লিকা আর  দেয়ালের কোণে একটা শিউলি গাছ | যেটা ফুল ফুটিয়ে শরতের আগে দুর্গাপুজোর কথা মনে করাবে। সে কি আর এই ইট পাথরের শহরে পাবো ? 


তোমায় যদি পাই একটা তুলসী মঞ্চ করব ঘরের সামনে| আলতা দেয়া পায়ে টুকটুক করে হেঁটে সন্ধ্যের প্রদীপ জ্বালাতে যাবে| আমি দাওয়াই বসে দেখব তোমায় | তোমায় যদি পাই, কোন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ মামার আলোয় একটা খাটিয়া পেতে গল্প করব দুজনে | চারিদিকে ঝিঝি পোকার ডাক, আমরা নিস্তব্ধে তাকিয়ে দুজনে দুজনার দিকে | রাঙা ঠোঁট, নাকের নথ, এলোমেলো চুল আর মন খোলা হাসিমুখ, পূর্ণিমার রাতে মন্দ লাগবেনা বল? 


তোমায় যদি পাই, কোন বৃষ্টির রাতে যখন ঝরে চারিদিকে উথাল পাথাল ,আমি তোমায় বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে চাই| লণ্ঠনের আলোয়, আধো অন্ধকারে তোমার মায়াবী মুখে একটা চুমু | বাইরে মেঘের গর্জন আর বুকের ভেতরে ভালোবাসার ধুকপুকানি , এই সব ই পেতে চাই | সেদিন টাকে দুনিয়ার শেষ দিন মনে করে তোমায় ভালোবাসবো| 


তোমায় পেলে আমি পৃথিবী সবার বিরুদ্ধে তোমার জন্য লড়তে পারি। যদি সবাই না মানে, পালিয়ে যাব কোন দূর দেশে। এই জন অরণ্য ছেড়ে কোন সত্যিকারের অরণ্যে | এমন একটা দেশ যেখানে আর কাউকে চাই না | থাকবো শুধু দুজনে | আদম আর ইভ | যেখানে আমরাই বানাবো আমাদের সংসার | পারবেনা এই সব ছেড়ে কোন ভিনদেশে যেতে? পারবে না তুমি আমার সঙ্গে আসতে?


0

স্বার্থপর

By

 ঘুরতে যাবার নেশাটা ছিলো সেই ছোটো বেলা থেকেই । ইচ্ছে থাকলেও উপায় খুব একটা ছিল না তখন । ছোট বেলা হোস্টেলে থেকে মানুষ হয়েছি তাই জীবনটা একটা গন্ডি তেই সীমাবদ্ধ ছিল । বছরে ছুটির ৩ মাস বাদ দিয়ে বাকি ৯ মাসই কাটতো হোস্টেলের গন্ডির ভিতরে । ওটাই জগৎ, ওটাই পৃথিবী, ওটাই ছিল ঘর । খুব যে ছোট ছিল তা নয় , বিশাল বড় জায়গা নিয়ে বানানো । খেলার মাঠ , স্নানের পুকুর , স্কুল বিল্ডিং , খাবার জন্য বড় হল , মন্দির , চাষের জমি , ফুলের বাগান থেকে শুরু করে গরুর গোয়াল কি ছিল না সেখানে । পাঁচিলে ঘেরা স্বয়ং-সম্পুর্ন একটা অন্য জগৎ , কেউ যেন লুকিয়ে আলাদা করে রেখেছে বাকিদের থেকে । যাকে উপভোগ করার অধিকার শুধু আমাদের , বাইরের কারো ছিল না । তাই ওই জীবনটার বাইরেও যে আরো কিছুর দরকার থাকতে পারে সেটা কোনো দিন অনুভব করতে হয়নি ঠিকই তবে বাইরের পৃথিবী ঘুরে দেখার জন্য লোভ ছিল আগাগোড়া ।

ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর চাইলেই একটা ভালো চাকরি নিয়ে কলকাতা তেই থেকে যেতে পারতাম । সারাদিন কাজ করে ফিরে রাতে মায়ের কোলে মাথা রেখে শান্তির ঘুম , এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে ? মা বাবা ভাই আর আমার প্রেমের কলকাতা , এদের বাইরেও তো কিছু আছে এই ধরাধামে । নতুন কিছু দেখা , নতুন কিছু শেখা , নতুন কিছু করা এটাই তো প্রগতিশীল মানব জাতির লক্ষণ । সেই নতুন কিছু পাবার হাতছানি উপেক্ষা করি কি করে !? পড়াশুনা শেষ করেই বেরিয়ে পড়েছিলাম বাইরের কোনো শহরের উদ্দেশ্যে । প্রথমে ব্যাঙ্গালোর তারপর স্বপ্নের নগরী মুম্বই । স্বপ্নের নগরী যে কতটা স্বপ্নে ঘেরা সেটা পড়ে একদিন বলবো । সে যাইহোক , নতুন জায়গা নতুন লোক কখনো বিচলিত করেনি বরং ভালোই লাগে । নতুন সংস্কৃতি নতুন ভাষা অন্য চালচলন সেসব কি শুধু বই পড়ে জানতে পারতাম ! অনেকে বলে “কি দরকার ওসবে? এই তো ভালোই আছি ঘরেই” । তারাও ভুল কিছু বলেনা , তারা তাদের চিন্তাধারায় ঠিক আর আমি আমার মতো করে ঠিক ।

  তবে সত্যি বলতে কি , আমি জীবনের সত্যিকারের শিক্ষা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পেয়েছি । নতুন কোনো শহরে যেখানে কাউকে চেনো না সেখানে মাথা গোজার মতো জায়গা জোগাড় করাটাই যে কত বড় শিক্ষা সেটা হয়তো বই পড়ে শিখতে পাইতাম না । আগে ঘরে কোনোদিন বাজার পর্যন্ত করে নিয়ে আসিনি কিন্তু এখন তো নিজের খাবার টাও কখনো কখনো নিজেকেই বানিয়ে খেতে হয় । এই টুকু আত্মনির্ভরশীল যে হতে পেরেছি সেটাই অনেক বড়ো পাওনা আমার কাছে ।

  একদম শুরুতেই বলেছি যে ঘুরতে যাবার নেশা ছোট বেলা থেকেই তাই হাথে পাওয়া সুযোগ ছাড়ি কি করে ! সুযোগ পেলেই বেরিয়ে যাই নতুন অভিজ্ঞতা নতুন রোমাঞ্চকর কিছুর খোঁজে । সপ্তাহের ৫ টা দিন অফিসের জন্য আর বেঁচে থাকা দুটো দিন শুধু আমার । দুনিয়ার বাকি সবার কথা ভুলে সব চিন্তা জলাঞ্জলি দিয়ে কিছুটা স্বার্থপরের মতোই বেরিযে পরি পিঠে ব্যাগ নিয়ে । কখনো পাহাড় , কখনো সমুদ্র কখনও বা ঝর্ণা , আরো কত কি । প্রতিবারই নতুন বিস্ময় নিয়ে দেখি সবকিছুকে । এই তৃষ্ণার কোনো শেষ নেই , দিন দিন বেড়েই চলেছে ক্রমশ । আমার এক প্রিয় বন্ধু খুব ভালো একটা কথা বলেছিলো “ তুই তো ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছিস , চাকরীটা তো শুধু ঘোরার টাকা জোগানোর জন্য “ । কথাটা কতটা সত্যি জানিনা তবে শুনতে সত্যি খুব ভালো লেগেছিলো ।

 এখন ২৫ বছর বয়স আমার । এর মধ্যে ২৩ টা বছর কাটিয়ে দিয়েছি বাবা মা ভাই বোনের কথা ভেবে । হয়তো আরো ৪/৫ বছর পর বিয়ে করে নিতে হবে , তখন হয়তো বউ বাচ্চা নিয়েই নতুন জীবনের শুরু ।নিজের জন্য বাঁচা , স্বপ্ন পূরণ সেগুলোর জন্য সময় কোথায় ! এই দুটো ধাপের মাঝে যে এই ৫/৬ বছর অবশিষ্ঠ সেটাই সময়। সেটা সম্পূর্ণ আমার , সেখানে না আমি কারো কথা শুনতে চাই না কারো সঙ্গে কোনো আপোস করতে চাই। অনেক কবি লিখেছেন যে জীবন মনে নাকি অন্যের জন্য বাঁচা । সত্যিই কি তাই , আমরা সাংসারিক প্রাণী বলে কি নিজের জন্য বাঁচার কোনো সুযোগ পাবোনা ।? অন্যদের কথা জানিনা তবে আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই । নাহলে আরো 20/2৫ বছর পর যখন আধা বুড়ো হয়ে যাবো তখন কোনো একদিন সকালে উঠে হয়তো অতীতের মানে এই সময়ের কথা ভেবে আফসোস করতে হবে ।হয়তো ভাববো “সময় ছিল , সুযোগ ছিল কিন্তু জীবন টা বাঁচার মতো করে বাঁচতে পারলাম না”। আমার কথা গুলো হয়তো স্বার্থপরের মতোই শোনাচ্ছে , জানি । তা শোনাক , স্বপ্নের হাতছানির জন্য একটু স্বার্থপর তো হতেই হবে । হাহাহা !

শুভরাত্রি ।।।

0

চকলেট আঙ্কেল

By



ছুটির দিনে  ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো ।  সোম থেকে  শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের  ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের  ঘুম ভাঙ্গিয়েছি  দুম দাম শব্দে ।  পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো ! 
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল ।  বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে  এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন  ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল  । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি ।  হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো ।  মনে মনে একটু হেসে নিলাম।

এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে  , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই  ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই  কিন্তু  সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই  নিয়ে নিল একটা করে ।  আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?"  ।   মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট  ভাবে জবাব দিল "রোহিত" ।  ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই  খেলছিলো  , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " ।  সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।

এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই  চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন  জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়।  শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট  আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে ।  মিষ্টি  করে ডাকলে ওই বোকা বোকা  নামটাই যেন বেশ লাগে এখন ।  এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব ।  কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।







0

Ice cream

By

Abar kaj gulo kora holo na ajkeo. Vikings er episode gulor asokti ato tai beshi , chere uthe kono kaj korte ichhai korlo na. Aj bade kal exam ache edik, soumen k porano ache tar mddhe, office ache tar upor, ki je korbo k jane. Dida ekhon amader barite eseche 2 saptaho holo,hawa beshi bole amar room ei thak dida.Thammi, ebong du dadui gato hyechen, ekmatro Didun achen beche, tai didun k nihsandehe khub vlobasi .tobuo Room hatchara howar dukhho to ektu howa savabik noy ki! Tai vablm chadei jai ektu,  Chade utheo hawa ta thik thak pelam na, dokhhin dik e thaka flat ta amar eituku sostir hawa tao atkie dilo. Flat tar upore amar kato ovijog!!eta vebe nijei hese nilam ektu. kintu sotti ktha bolte gele, bujhte parlm ovijog ta onno kothao korar chilo, kintu sei jayga ta kore uthte parini. gola r kache ekta dola pakano dukhho ta  hothat ektu hawa ditei chokher kona ta vijie die gelo , ekta khub titkute onuvuti asche anik khhon dhore mone,khub obiswas korte ichhe korche sab kichuk. bujhte parlm kal rater baje sapno ta purono khato gulok jagie die geche samanno. kharap sriti gulo valo sriti gulok harie die nijer bistar barachhe. Bujhlam amar nijer uporei amar mon er ovijog chilo asole, Dukhho jinista sikar korte sikhini ami, tai khub mon kaste thkleo kacher lokera sotti bolte ter peto na, Ma, babao noy. Se prothom bar hridoy vangar dukhho tukuo ter pete dini, kimba rojkar nirasha gulo noy. kintu ato dukhher bojha eka tante gie, vitor tak alpo alpo kore tikto kore felechi nijei. Nijek khub ek kone kore felechi hyto evabei.  ei kotha gulo realize korte pere, ekta dirgha sash berie aste na astei mar gola sunte pelam, ice cream khete  niche dakche. Eisab bichhiri bastob er ktha likhte likhte jodi ice cream ta gole jay!!ei vebe dour lagalam ajker moto.
1

মনময়ুরী

By


       জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে  সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।

    দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি  ।

    পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
Anterior Inicio
 
Designed By © Nihar