1

মনময়ুরী

By


       জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে  সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।

    দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি  ।

    পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
0

প্রথম চিঠি

By

প্রিয় ময়ূরী  ,
আশা করি এখন তুই ভালোই আছিস । তোকে অনেক দিন থেকে এটা লিখবো ভেবেছিলাম , সাহস হয়নি কোনদিন । আজ আর না লিখে পারলাম না রে । ভুল ভাবিস না প্লিজ ।
      হ্যা , আমি তোকে ভালোবাসি । সেই প্রথম যেদিন দেখেছিলাম ,সেদিন থেকেই । প্রেমটা বড় অদ্ভুৎ জানিস ! মানুষটাকে পুরো পালটে দেয় । আগে সন্ধ্যা বেলা মাঠে বসে বন্ধু দের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেশ লাগতো , এখনো মাঠে যাই কিন্তু আড্ডা টা আর জমে না । মাঠের কোনে বাদাম গাছ টায় হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি । বসন্তের সন্ধ্যায় দখিনা হাওয়া আমার মনটাকে দুলিয়ে চলে যায় । আকাশের দিকে তাকিয়ে  গুটি কয়েক মেঘের কুন্ডলি আর একগুচ্ছ মিটমিটে তারার মাঝে যখন নিরেট গোল পূর্ণিমার চাঁদ টাকে দেখি , তখন বুকের ভেতর টা এক অজানা কারনে খুশি তে ভরে ওঠে । তোর মুখ টা আমি ওই চাঁদের মধ্যে দেখতে পাই । যেন তুই একগাল হেসে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস । গাছের পাতার ফাক দিয়ে  চাঁদের আলো এসে যখন আমার গায়ে পরে , মনে হয় তুই যেন জরিয়ে ধরেছিস আমায় । নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় যখন গাছের পাতা গুলো হাওয়ায় দুলে একটু শব্দ করে , মনে হয় তুই যেন আমার কানে কানে কিছু একটা বলে গেলি । মেঘ , চাঁদ , হাওয়া , পাতা এসব আগেও ছিল কিন্তু ওরা এর আগে কোনোদিন আমায় অবাক করেনি এরকম । আগে শুধু অগুলোকে দেখতাম , এখন অনুভব করতে পারি নিজের মধ্যে ।
স্কুলে রোজ যখন তুই পড়া শুনিস মন দিয়ে , আমি তখন শেষ বেঞ্চ থেকে মন দিয়ে শুধু তোর দিকে তাকিয়ে থাকি । পড়া আর আজকাল শোনা হয় না । স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশানে তোর আবৃতি করা কবিতা টা আমি পুরোটা মুখস্ত করে নিয়েছি , একদিন তোকে শোনাবো বলে । এখন আমি রোজ তারাতারি ঘুম থেকে উঠি তোকে দেখার জন্য । রোজ সকালে যখন আমার বাড়ির সামনে থেকে টিউশন যাস আমি ছাদ থেকে উকি মেরে দেখি । মা একটু অবাক হয়েছেন এখন রোজ এত তারাতারি ঘুম থেকে ওঠার জন্য । তোর একটা রুমাল হয়তো হারিয়ে গেছে  তাইনা ? ওটা তুই ক্লাসে ফেলে রেখে গেছিলি । আমার কাছে ই আছে এখন ,  যত্ন করে রেখে দিয়েছি ওটা ।
সেদিন তোকে আমি পুকুর ধারে দেখেছিলাম , যখন তুই ঘাটের পারে বসে জলে পা দোলাচ্ছিলি আর গুন গুন করে কি যেন একটা গাইছিলি । তোর জলে ভেজা পায়ে নূপুর টা হিরে বসানো গয়নার থেকেও বেশি সুন্দর লেগেছিল আমার । মনে হয়েছিল , জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে একবার ছুয়ে আসি তোকে । গলাপি ঠোঁটে হাসি মুখ টা কিছুতেই ভুলতে পারিনি এখনো । মনে হয়েছিলো তোর কলে মাথা দিয়ে শুয়ে জীবনের সব একাকীত্ত জলাঞ্জলি দিয়ে দি । তুই যেন তখন আমার দিকে তাকিয়ে আমার মাথায় হাথ বুলিয়ে দিস । নাহয় কিছুক্ষন দুজনে দুজনার দিকে তাকিয়ে থাকব একদৃষ্টে । পৃথিবীর সব বাধা বিঘ্ন উপেক্ষা করে আমি একবার জরিয়ে ধরব তোকে ।
অগোছালো জীবন টা একটু গোছাতে শিখেছি এখন । আগে বাবার মার খুব ভয় পেতাম , এখন তোকে হারানোর ভয়টা সেটার থেকেও অনেক অনেক বেশি । ভালোবাসা সত্যিই মানুষকে পালটে দেয় । তোর উত্তরের আশায় রইলাম ।

~ইতি অনিরুদ্ধ 
1

একলা মেয়েটা

By

      মেয়েটা  খুবই একা কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়না । সে ও চেয়েছিল বাকি সবার মতো জীবনের তালে তাল মেলাতে  । যৌবনের প্রথম আধ্যায় তে আরও পাঁচটা মেয়ের মতো সে ও জীবনজোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল একটু প্রেমের আশায় । ভালোবাসা কতোটা পেয়েছিলো তা জানিনা তবে দুঃখ অনেকটা পেয়েছিলো সে । তাই বোধয় আজ ভালোবাসার প্রতি কোন ভালোবাসা নেই তার ।

      জীবন তাকে শিক্ষা দিয়েছে কঠোর ভাবে  ,  সে শিক্ষা কোন বইতে পাওয়া যায় না । রাতে চোখ বন্ধ করে শুয়ে যখন ঘুম আসেনা তখন স্মৃতি গুলো আবার নারা দিয়ে ওঠে বার বার । অনেক কষ্ট করে সেগুলোকে সরিয়ে রেখে একটু ঘুমোবার চেষ্টা করে । মাঝে মাঝে ভাবে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করবে কিন্তু কোন এক অজানা ভয় তাকে বার বার আটকে দেয় । আগের মতো কষ্ট পেতে সে আর চায় না ।

      রূপকথায় পড়া স্বাপ্নের রাজকুমার খুজেছিল সে একদিন , কিন্তু ভুলে গেছিলো যে , সে নিজে কোন রাজকন্যা নয় । তাই রাজসুখ টা তার কপালে নেই । এখন সে বুঝেছে সব তাই কোন রাজকুমারের প্রতি তার আর মোহ নেই । ধুলো মাখা অগোছালো গারিব  ছেলে টা আজ তার কাছে রাজকুমারের থেকে বেশি  মুল্যবান ।

0

তোরা ভালো থাক

By



    আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যারা আমায় পাগল ভাবে । আগে একটু খারাপ লাগতো ঠিক ই কিন্তু এখন এটাকে ই উপভোগ করি । পাগলামি টা আজকাল মস্তিস্ক থেকে অস্থি সব জায়গায় ছেয়ে গেছে । আর পাঁচ জন লোকের মতো সাধারন ভাবে জীবন জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়া টা কোনো দিন ই আমার স্বভাবে ছিল না । এই মহানাগারী তে রোজ কতো লোক দেখি , তাদের চেহারা আর পোষাক টা বাদ দিয়ে বাকি সবটুকুর মধ্যে কতো মিল । সবাই একে অপরের থেকে নকল করতে ব্যাস্ত  ।  সেই বিরাট জনসমূদ্রে দারিয়ে একটু আলাদা হয়ে থাকাটা খুব আনন্দের । সবাই জীবন যুদ্ধে ব্যাস্ত , শুধু সবার  যুদ্ধের ধরন টা একটু আলাদা ।

    আজকাল অনেকে এরিয়ে যাবার চেষ্টা করে । তাদের কেও জানাই ধন্যবাদ , কারন তাদের জন্য আমি আবার নতুন করে কিছু জিনিস ভাবার সুযোগ পাই । তোরা ভালো , তোরা ভালো ই থাক  । বেশি ভালো হতে গিয়ে নিজেকে পালটাতে পারবো না রে  !
Siguiente Anterior Inicio
 
Designed By © Nihar