Showing posts with label blog. Show all posts
Showing posts with label blog. Show all posts
0
By
Nihar Sarkar
ছুটির দিনে ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো । সোম থেকে শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের ঘুম ভাঙ্গিয়েছি দুম দাম শব্দে । পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো !
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল । বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি । হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো । মনে মনে একটু হেসে নিলাম।
এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই কিন্তু সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই নিয়ে নিল একটা করে । আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?" । মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট ভাবে জবাব দিল "রোহিত" । ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই খেলছিলো , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " । সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।
এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়। শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে । মিষ্টি করে ডাকলে ওই বোকা বোকা নামটাই যেন বেশ লাগে এখন । এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব । কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।
চকলেট আঙ্কেল
ছুটির দিনে ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো । সোম থেকে শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের ঘুম ভাঙ্গিয়েছি দুম দাম শব্দে । পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো !
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল । বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি । হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো । মনে মনে একটু হেসে নিলাম।
এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই কিন্তু সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই নিয়ে নিল একটা করে । আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?" । মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট ভাবে জবাব দিল "রোহিত" । ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই খেলছিলো , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " । সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।
এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়। শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে । মিষ্টি করে ডাকলে ওই বোকা বোকা নামটাই যেন বেশ লাগে এখন । এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব । কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।
1
By
Nihar Sarkar
জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।
দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি ।
পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
মনময়ুরী
জানালা গুলোর ঝাপটানির আওয়াজে বিকেলের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল । ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বাইরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে সঙ্গে একটু ঝর । আর শুয়ে থাকতে পারলাম না । তাড়াহুড়ো করে উঠে গেঞ্জি টা কোন রকম গলিয়ে ঘরের বাইরে বেরোলাম , তারপর সোজা এক দৌরে ছাদে । ছাদের রংচটা , কানা ভাঙ্গা দরজা টা ঝরের ঝাপটায় কাপতে শুরু করেছে । ছাদে প্রথম পা দিতেই দমকা হাওয়া এসে বুকে আছড়ে পরল জোরে । দুরের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াচ্ছে হাওয়ার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে । পাশের বাড়ির ছাদে মেলা একটা কাপড় উরে এসে পরল আমার পায়ের কাছে । ছাদের চিলেকোঠার শালিখের বাসাটা ভেঙ্গে গেছে কখন ঝরের ঝাঁপটায় । ছাদের পাশের শিরীষ গাছটার শুকনো পাতা গুলো ছাদময় ছরিয়ে একাকার হয়ে গেছে চারিদিকে । দুরে পশ্চিম দিকে সূর্যিমামা ক্লান্ত হয়ে বিদায় জানাচ্ছিল তখন । মেঘ কে উপেক্ষা করে গোধূলির আলো তখনো উঁকি দিচ্ছে , সেই আলোয় রাঙিয়ে আছে পশ্চিমের মেঘ গুলো ।
দু ফোঁটা বৃষ্টি এসে পরল আমার গায়ে । ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে দারিয়ে হাথ দুটো ছরিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষন । প্রান ভরে উপভোগ করতে চাইলাম বছরের প্রথম বৃষ্টি । তখন মনে পরে গেল শেষ বছরের এরকম এক দিনের কথা । এক বিকেলে এরকম ই ভিজতে এসেছিলাম ছাদে । বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা গুলোকে উপেক্ষা করে দারিয়েছিলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে । পাশের বাড়ির বিক্রমদার ছাদে চোখ যেতেই চোখ আটকে গেছিলো সেদিকে । আমার সমবয়েসি একটা মেয়ে ছাদ ময় নেচে বেড়াচ্ছে আপন মনে । খোলা চুলে হাথে ওড়না টাকে টাকে দুহাথে ধরে ছরিয়ে দিচ্ছিল আকাশের দিকে । যেন সে বৃষ্টি গুলোকে ওড়নাতে আটকে নিতে চায় । নীল হলুদ চুড়িদারে যখন ওড়না ছরিয়ে নাচছিল , সে নাচ মেঘলা বিকেলের বনময়ূরের নাচের থেকেও বেশি সুন্দর । চোখ বন্ধ করা সেই হাসি মুখ টা মুহূর্তের মধ্যে গেথে গিয়েছিল মনে । নির্ভেজাল সেই হাসি মন কেরে নিতে পারে সবার । জীবনের অন্য সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সে যেন শুধু সেই মুহূর্তটুকু প্রান ভরে আপন করে নিতে চায় । ভেজা চুলে হাথ বোলাতে বোলাতে যখন চুল ঝারতে গেছিলো ও , তখনি চোখাচুখি হল দুজনের । থেমে গিয়ে ছাদের দেয়ালের পাশে এসে দারাল , আমিও অন্য দিকে দেখার ভান করেছিলাম । আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েছিলাম , বুঝেছিলাম সে ও তাকাচ্ছে । এবার একটু লজ্জার হাসি মুখে । ওড়না টাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে একটু অন্য দিকে তাকাল । তারপর এরকম ভাবেই কাটল কিছুক্ষন । নিচের থেকে নীলা বলে একটা ডাক আসায় একটু মুচকি হেসে চলে গিয়েছিল সে । এর আগে বৃষ্টি টাকে কোনদিন আমার এত ভালো লাগেনি ।
পরে জেনেছিলাম বিক্রমদার মামার মেয়ে ও । তারপর থেকে বৃষ্টি হলে রোজ আসি ছাদে , সেই বনময়ূরীর নাচ দেখব বলে । আবার হয়তো সেই চুলখোলা নিস্পাপ হাসি মুখ টা দেখতে পাবো , সেই আশায় । মেঘ হয় , বৃষ্টি ও আসে কিন্তু ময়ূরী আর আসে না ।।
Subscribe to:
Posts (Atom)



