তোমায় যদি পাই ইট পাথরঘেরা জঞ্জাল ছেড়ে কোন সবুজ দেশে যেতে চাই |হয়তো বাড়িতে কোনো লিফট থাকবে না, থাকবে না লম্বা সিরি ,মাটির দেওয়ালে ঘরের ছাউনি ই থাকুক, সেথায় যেতে চাই | ছোট্ট একটা ঘর পুরনো কিছু আসবাব আর দক্ষিণ মুখে একটা জানালা, তাও যেতে চাই। নড়বড়ে জানালার তালি দেয়া পর্দার ফাঁক দিয়ে একটু দক্ষিণের হাওয়া আসবে , এসি আমি চাইনা |
লাখ টাকায় কেনা গাড়ি চাইনা, ঘরের সামনে চাই একটা ছোট্ট বাগান | যেখানে দুজনেই পরিপাটি করে সাজাবো কত গাছ | গাদা, টগর, চন্দ্রমল্লিকা আর দেয়ালের কোণে একটা শিউলি গাছ | যেটা ফুল ফুটিয়ে শরতের আগে দুর্গাপুজোর কথা মনে করাবে। সে কি আর এই ইট পাথরের শহরে পাবো ?
তোমায় যদি পাই একটা তুলসী মঞ্চ করব ঘরের সামনে| আলতা দেয়া পায়ে টুকটুক করে হেঁটে সন্ধ্যের প্রদীপ জ্বালাতে যাবে| আমি দাওয়াই বসে দেখব তোমায় | তোমায় যদি পাই, কোন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ মামার আলোয় একটা খাটিয়া পেতে গল্প করব দুজনে | চারিদিকে ঝিঝি পোকার ডাক, আমরা নিস্তব্ধে তাকিয়ে দুজনে দুজনার দিকে | রাঙা ঠোঁট, নাকের নথ, এলোমেলো চুল আর মন খোলা হাসিমুখ, পূর্ণিমার রাতে মন্দ লাগবেনা বল?
তোমায় যদি পাই, কোন বৃষ্টির রাতে যখন ঝরে চারিদিকে উথাল পাথাল ,আমি তোমায় বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে চাই| লণ্ঠনের আলোয়, আধো অন্ধকারে তোমার মায়াবী মুখে একটা চুমু | বাইরে মেঘের গর্জন আর বুকের ভেতরে ভালোবাসার ধুকপুকানি , এই সব ই পেতে চাই | সেদিন টাকে দুনিয়ার শেষ দিন মনে করে তোমায় ভালোবাসবো|
তোমায় পেলে আমি পৃথিবী সবার বিরুদ্ধে তোমার জন্য লড়তে পারি। যদি সবাই না মানে, পালিয়ে যাব কোন দূর দেশে। এই জন অরণ্য ছেড়ে কোন সত্যিকারের অরণ্যে | এমন একটা দেশ যেখানে আর কাউকে চাই না | থাকবো শুধু দুজনে | আদম আর ইভ | যেখানে আমরাই বানাবো আমাদের সংসার | পারবেনা এই সব ছেড়ে কোন ভিনদেশে যেতে? পারবে না তুমি আমার সঙ্গে আসতে?



