0

চকলেট আঙ্কেল

By



ছুটির দিনে  ভাল করে একটু ঘুমতেও দেয় না বাচ্চা গুলো ।  সোম থেকে  শুক্র সারাদিন কাটাতে হয় অফিসে, তাই শনিবার দুপুরে খাবার পর একটু ঘুমোতে পারলে যেন শান্তি । তা হবার জো নেই । তিনটে বা সারে তিনটে বাজলেই ব্যাট বল নিয়ে বেরিয়ে এসে চার তলার সামনের জায়গা টুকুতে খেলা জুরে দেয় । দুম দাম করে বল গুলো দরজায় এসে পরে , তাতে আমার সাধের ঘুমের দফারফা । প্রথম প্রথম কদিন খুব বিরক্ত লাগত এসব , তারপর একদিন মনে পরল নিজের  ছোটবেলার কথা । ছোটকালে ঠিক এরকম ই আমিওতো অগুনতি বার লোকেদের  ঘুম ভাঙ্গিয়েছি  দুম দাম শব্দে ।  পাশের বারির জানালার কাঁচও ভেঙ্গেছি বেশ কয়েকবার ।ওরাই বা বাদ থাকবে কেনো ! 
থাক সেসব , ঘুমটা তো আর হলনা ঠিকমতো । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললাম । আমি বাইরে বেরোতেই, আমায় দেখামাত্র বাচ্চা দুটো মুহূর্তের জন্য কি যেন ভেবে এক দৌরে যে যার ফ্লাটে । পালানোর সময় বলটাও নিতে ভুলে গেছে । বলটা গড়াতে গড়াতে পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে এসে থামল ।  বাচ্চা গুলো তখন ওদের ঘরের মধ্যে থেকে শুধু মাথাটুকু বার করে উকি মেরে  এইদিকে চেয়ে চেয়ে দেখছে । মিনিটখানেক পর হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন  ঘর থেকে বেরিয়ে একদৌড়ে বল টা নিয়ে ভেতরে চলে গেল  । তারপর আর বেরোয়নি সেদিন , আমি ঘরে চলে আসার পরও সেদিন আর খেলার আওয়াজ পাইনি ।  হঠাৎ দেখে যে ওরা ভয় পেয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা গেলো ।  মনে মনে একটু হেসে নিলাম।

এর পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে  , যখনই আমায় দেখে তখনই দৌরে পালায় । এরকমই একদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম , লিফট থেকে বেরিয়েই দেখি ওরা খেলছে সামনেই । পালাতে যাচ্ছিল কিন্তু একজনের হাথ ধরে বললাম " রুক ইধর " । তারপর বাগ থেকে একটা চকলেট বার করে ওর হাথে দিয়ে বললাম "খা লে" । তাই দেখে অন্য জন ও কাছে আসতে দেখে তাকেও দিলাম একটা । ছোট্ট মুখদুটোতে আর আগের মতো গোমরা ভাব টা নেই , হাসি তে ভরে উঠেছে। আসলে অফিসের একজনার জন্মদিনে চকলেট দুটো পাওয়া । আমি খুব একটা খেতে পছন্দ করিনা বলে ব্যাগে তেই  ছিল ও দুটো । পরের দিনও ঠিক ওই সময়ে খেলছিলো ওরা ওখানেই  কিন্তু  সেদিন আর দৌরে পালায়নি । সেদিন নিজেই দুটো চকলেট কিনে রেখেছিলাম অফিস থেকে বেরিয়ে । সেগুলো বার করে দিতেই ওরা নিজেরাই  নিয়ে নিল একটা করে ।  আর ভয় পাচ্ছে না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম " নাম ক্যা হ্যয় ?"  ।   মেয়েটা জবাব দিল "মেরা নাম রাভিনা " , ছেলেটা পুরো চকলেট মুখেপুড়ে দিয়ে খেতে খেতে অস্পষ্ট  ভাবে জবাব দিল "রোহিত" ।  ঠিক তার পর দিন যখন ফিরলাম অফিস থেকে ওরা ওদের জায়গাতেই  খেলছিলো  , আমায় দেখতে পেয়েই জিজ্ঞেস করল " আঙ্কেল চকলেট নাহি লায়ে ? " ।  সেদিন ছিল না আমার কাছে , বললাম " কাল সে লায়েঙ্গে রে " ।

এর পর অফিস থেকে ফেরার পথে প্রায় দিনই  চকলেট নিয়ে আসি ওদের জন্য । যেদিন থাকেনা সেদিন  জিজ্ঞেস করলে "কাল লায়ুঙ্গা " বলে চলে আসি। তাতে যে ওরা খুশি হয়না সেটা মুখ দেখেই আন্দাজ করা যায়।  শুনলাম ওরা নাকি আমার নতুন নাম রেখেছে " চকলেট  আঙ্কেল" । শোনার পর খুব হাসি পেয়েছিলো প্রথমে, কিন্তু এখন বেশ ভালই লাগে শুনতে ।  মিষ্টি  করে ডাকলে ওই বোকা বোকা  নামটাই যেন বেশ লাগে এখন ।  এই তো যেন সেদিনের কথা ,ছোটবেলায় আমাকেও পাশের বাড়ির এক কাকু রোজ কিছু না কিছু এনে দিতো , ভালো লাগতো খুব ।  কখন যে সেই বাচ্চা ছেলে টা থেকে আঙ্কেল এ পরিনত হয়ে গেছি সেটা হয়ত ওদের সঙ্গে পরিচয় না হলে বুঝতেও পারতাম না। আজ ব্যালকনি তে দারিয়ে নিজের সেকথাই ভাবছিলাম , বয়েসটা সময়ের সঙ্গে দউরাচ্ছে । সিগারেটের শেষটানের ধোঁয়ার সঙ্গে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ।।







0 comments:

Post a Comment

Siguiente Anterior Inicio
 
Designed By © Nihar