6
By
Nihar Sarkar
আমি মধ্যবিত্ত বাঙালি , যার মাসের শেষ কটা দিন চলে পরের মাসের মাইনের অপেক্ষায় । যে মাস গুলো ৩১ দিনে , সেগুলোর শেষের একটা বেশি দিন চালাতে পকেটে টান পরে । আমি সেই বাঙালি যারা ট্যাক্সি চরার আগে পকেটে হাথ দিয়ে দুবার ভাবে । আমাদের কাছে ঘুরতে জাওয়া মানে পুরী আর বাইরে খাওয়া মানে ঝালমুড়ি । আমি সেই লোক , যে বড় পাঁচতারা হোটেলের সামনে থেকে যাবার সময় সেদিকে তাকিয়ে ভাবে " একদিন আমিও আসব এখানে " । কিন্তু সেই একদিন টা আর কোনদিন আসে না । সিগারেট টা আমাদের কাছে বিলাসিতা তাই বিড়ি ধরাতে ধরাতে দোকানের সিগারেটের প্যাকেট টার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নি । অফিসের বড়বাবু যখন নতুন স্মার্টফোন কিনে সেটা সবাইকে দেখায় তখন আমি আমার পকেটে হাথ দিয়ে পুরনো সাদাকালো ফোনটা তে একবার হাথ বুলিয়ে নি , একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে আসে ।
বিপিন গাঙ্গুলি স্ট্রিট এর আমার বাড়ি টার আমার ই মত জরাজীর্ণ দশা । বর্ষাকাল টা খুব কষ্টের , ছাদ থেকে জল চুয়ে পরে দেয়াল বেয়ে , মেরামতির টাকা টুকু জোগার করা হয়ে ওঠে না । অফিসের জুতোটা আজ তিন বছর হয়ে গেছে , তালি দিয়ে দিয়ে জুতোটার আসল অংশ আর কিছু বাকি নাই । মুচি টাও আর সেলাই করতে চায় না , বলে " নতুন কিনে নিন বাবু " । রোজ দোকানের সামনে গিয়ে ভাবি পরের মাসের মাইনে টা পেলে আমিও একটা ভালো জুতো কিনব , কিন্তু কেনা হয়না । জুতোর টাকা ছেলের নতুন বই কিনতে দিয়ে দিতে হয় , ভাবি এই মাস টাও সেলাই করেই চালিয়ে দেব । মেয়ে টা বড় হয়েছে , বিয়ে দিতে তো অনেক খরচা তাই প্রতি মাসে টাকা জমাতে হয় । আমার জামা টা পুরনো রংচটা , তাতে কি ! মেয়েটাকে একটা লাল বেনারসি দেবো , সেদিন দেখে এসেছি । দারুন মানাবে ওকে । ছেলেটার মাথা ভালো লেখাপরায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পরার ইচ্ছে ওর । কিন্তু অতো টাকা কোথায় পাই ! রাতে বিছানায় শুয়ে মনকে সান্তনা দি " ভগবান সব ঠিক করে দেবে " ।
আমাদের মত লকেদের বোধহয় স্বপ্ন দেখাও পাপ , কিন্তু স্বপ্ন আমার ও ছিল । বড় ফ্ল্যাট গুলোর সামনে দারিয়ে ভাবতাম একদিন আমার ও এখানে ঠাই হবে । আর পাঁচটা লোকের মত আমার ও স্বপ্ন ছিল একটা গাড়ি কেনার কিন্তু বাস ট্রাম এর ভিরে কখন যেন সেই গাড়ি কেনার স্বপ্নটাই হারিয়ে গেছে ।
তবু আমি স্বপ্ন দেখা ছারি না , হয়ত একদিন সকালে উঠে দেখব আমিও বড়লোক হয়ে গেছি । বড় একটা বাড়ি , দু তিনটে গাড়ি , চারিদিকে চাকর বাকর , দামি দামি জিনিসে আমার ঘড় সাজানো । এই ছোট্ট আশাটা ই তো আমায় এগিয়ে চলার শক্তি যোগায় ।
অনেক স্বপ্ন
আমি মধ্যবিত্ত বাঙালি , যার মাসের শেষ কটা দিন চলে পরের মাসের মাইনের অপেক্ষায় । যে মাস গুলো ৩১ দিনে , সেগুলোর শেষের একটা বেশি দিন চালাতে পকেটে টান পরে । আমি সেই বাঙালি যারা ট্যাক্সি চরার আগে পকেটে হাথ দিয়ে দুবার ভাবে । আমাদের কাছে ঘুরতে জাওয়া মানে পুরী আর বাইরে খাওয়া মানে ঝালমুড়ি । আমি সেই লোক , যে বড় পাঁচতারা হোটেলের সামনে থেকে যাবার সময় সেদিকে তাকিয়ে ভাবে " একদিন আমিও আসব এখানে " । কিন্তু সেই একদিন টা আর কোনদিন আসে না । সিগারেট টা আমাদের কাছে বিলাসিতা তাই বিড়ি ধরাতে ধরাতে দোকানের সিগারেটের প্যাকেট টার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নি । অফিসের বড়বাবু যখন নতুন স্মার্টফোন কিনে সেটা সবাইকে দেখায় তখন আমি আমার পকেটে হাথ দিয়ে পুরনো সাদাকালো ফোনটা তে একবার হাথ বুলিয়ে নি , একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে আসে ।
বিপিন গাঙ্গুলি স্ট্রিট এর আমার বাড়ি টার আমার ই মত জরাজীর্ণ দশা । বর্ষাকাল টা খুব কষ্টের , ছাদ থেকে জল চুয়ে পরে দেয়াল বেয়ে , মেরামতির টাকা টুকু জোগার করা হয়ে ওঠে না । অফিসের জুতোটা আজ তিন বছর হয়ে গেছে , তালি দিয়ে দিয়ে জুতোটার আসল অংশ আর কিছু বাকি নাই । মুচি টাও আর সেলাই করতে চায় না , বলে " নতুন কিনে নিন বাবু " । রোজ দোকানের সামনে গিয়ে ভাবি পরের মাসের মাইনে টা পেলে আমিও একটা ভালো জুতো কিনব , কিন্তু কেনা হয়না । জুতোর টাকা ছেলের নতুন বই কিনতে দিয়ে দিতে হয় , ভাবি এই মাস টাও সেলাই করেই চালিয়ে দেব । মেয়ে টা বড় হয়েছে , বিয়ে দিতে তো অনেক খরচা তাই প্রতি মাসে টাকা জমাতে হয় । আমার জামা টা পুরনো রংচটা , তাতে কি ! মেয়েটাকে একটা লাল বেনারসি দেবো , সেদিন দেখে এসেছি । দারুন মানাবে ওকে । ছেলেটার মাথা ভালো লেখাপরায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পরার ইচ্ছে ওর । কিন্তু অতো টাকা কোথায় পাই ! রাতে বিছানায় শুয়ে মনকে সান্তনা দি " ভগবান সব ঠিক করে দেবে " ।
আমাদের মত লকেদের বোধহয় স্বপ্ন দেখাও পাপ , কিন্তু স্বপ্ন আমার ও ছিল । বড় ফ্ল্যাট গুলোর সামনে দারিয়ে ভাবতাম একদিন আমার ও এখানে ঠাই হবে । আর পাঁচটা লোকের মত আমার ও স্বপ্ন ছিল একটা গাড়ি কেনার কিন্তু বাস ট্রাম এর ভিরে কখন যেন সেই গাড়ি কেনার স্বপ্নটাই হারিয়ে গেছে ।
তবু আমি স্বপ্ন দেখা ছারি না , হয়ত একদিন সকালে উঠে দেখব আমিও বড়লোক হয়ে গেছি । বড় একটা বাড়ি , দু তিনটে গাড়ি , চারিদিকে চাকর বাকর , দামি দামি জিনিসে আমার ঘড় সাজানো । এই ছোট্ট আশাটা ই তো আমায় এগিয়ে চলার শক্তি যোগায় ।
2
By
Nihar Sarkar
একলা রাতে
রাত শেষ হতে তখন বেশি বাকি নেই কিন্তু ঘুম আসে না চোখে । কোন দুর ঝোপ থেকে আসা ঝিঝি র ডাক নিস্তব্ধ রাতকে আবার জাগিয়ে তোলে । মাঝে মাঝে একটা দমকা হাওয়া এসে জানালা টাকে নারিয়ে চলে যায় । জানালার কাঁচ থেকে আসা হাল্কা চাঁদের আলো যখন অন্ধকার কে উপেক্ষা করে উকি দেয় আমি তখন চুপ করে শুয়ে থাকি তোর অপেক্ষায় । জানি তুই আসবি না , তাও এক অজানা কারনে অপেক্ষা । অন্ধকারের মাঝেও তোর মুখ টা পরিস্কার ভেসে ওঠে। কোন অদৃশ্য রুপে তুই যেন ছুয়ে চলে যাস আমায় । গা কাঁটা দেয় তোর ছোঁয়া তে , কিন্তু কোথায় তুই ? ছোঁয়া টা তো মনের ব্যামো আর মন টা তো বরোই অবুঝ ।
সারা দিনের ক্লান্তির সঙ্গে স্মৃতি গুলো যুদ্ধ করে যায়। স্মৃতি গুলো দেয়না ঘুমোতে আর ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসে । অবশেষে ক্লান্তির জয় হয় , ঘুম নেমে আসে চোখে ।
কিন্তু স্মৃতি গুলো স্বপ্ন হয়ে তখনো তারা করে বেরায় ।
সারা দিনের ক্লান্তির সঙ্গে স্মৃতি গুলো যুদ্ধ করে যায়। স্মৃতি গুলো দেয়না ঘুমোতে আর ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসে । অবশেষে ক্লান্তির জয় হয় , ঘুম নেমে আসে চোখে ।
কিন্তু স্মৃতি গুলো স্বপ্ন হয়ে তখনো তারা করে বেরায় ।
7
By
Nihar Sarkar
দ্বিতীয় আধ্যায়
পুজার ছুটি তে প্রায় ছয় মাস পর বাড়ি এসেছি । অফিস এর কাজের চাপ ছেরে কদিন একটু শান্তি । আমার সেই পুরনো শহর কলকাতা ,যেখানে আমার জন্ম , যেখানে কেটেছে আমার শৈশব । বাড়ি ফিরে সেদিন রাতে সামনের বারান্দা তে বসে পুরনো সব কথা গুলো মনে পরে জাচ্ছিল তাই মনটা একটু খারাপ হয়ে গেছিল । পরদিন সায়ন এর সঙ্গে ঘুরতে বেরবো , সেরকম এ কথা হয়ে আছে । রাত বেশি না করে শুয়ে পরেছি তারাতারি , অনেক দিন পর আবার আমার সেই পুরনো বিছানা , পুরনো পাস বালিশ । ঘুমতে বেশি দেরি লাগেনি , শোয়া মাত্র চোখে ঘুম ।
পরদিন বিকেল ৪ টে সায়নের বাড়ি হাজির হলাম । অনেক দিন পর দেখা , আমায় জরিয়ে ধরে বলল:
- কেমন আছিস ?
-এই ত দেখতেই পাচ্ছিস, চলে যাচ্ছে কোনো রকম ।
তারপর কিছুক্ষন এই কথা সেই কথা বলে আমরা বেরিয়ে পরলাম হাঠটে , হেটে ঘোরা টা আমাদের দুজনের এ পছন্দ । স্কুল থেকে বেরিয়ে ওরকম কত ঘুরেছি , রাস্তার মোর থেকে দেয়ালের ইট সবএ ছিল চেনা । সেই পুরনো গলি গুলো এখন একটু বদলেছে কিন্তু বেশির ভাগ টাই আগের মত । আমরা আমাদের স্কুল বেলার কথা গুলো মনে করে করে নিজেদের মাঝে হাসাহাসি । এখানে এই করেছি , ওখানে ওই করেছি এইসব গল্প ।
দিন গুলো কত তারাতারি কেটে গেল , এই সেদিন এ তো মাধ্যামিক দিলাম । এর মদ্ধে ৭ বছর যে কখন পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি ! এই তো সেদিন এ বাইক চালানো শিখতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলাম , এর মদ্ধে এতটা সময় যে পেরিয়ে গেছে টা আন্দাজ এ করা গেল না । এসব কথা ভাবতে ভাবতে হাটছি , সায়ন এর ডাকে ফিরে তাকালাম । দেখলাম সামনে গলির মুখে একটা চায়ের দোকান , ও সেই দিকে ইশারা করছে । অনেক দিন পর কলকাতার রাস্তায় মাটির ভারে চা , ব্যাপারটা একটু নষ্টালজিক টাই আমি মানা করিনি জদিও আমার চায়ের প্রতি কোনো ভালবাসা নেই । পাঞ্জাবির পকেট থেকে সিগারেট টা বার করে ধরিয়ে নিয়েছি ততক্ষনে ।
দোকানে টাকা মিটিয়ে সামনের গলিটায় ঢুকে দু পা হাঠার পর এ থমকে দারালাম , সামনে একটা মেয়ে ; " বিজায়া " । সময় টা একটু থেমে গিয়ে যেন আগের অনেক কথা মনে করিয়ে দিল । বিজায়াকে আমি স্কুল থেকে চিনি । শুধু চিনি বললে ভুল হবে , ও আমার শৈশবের প্রথম প্রেম । স্কুল এ খেলা বা সাহস এর জন্য বরাবর আমার নাম ছিল কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো দিন সাহস টা কাজে লাগেনি । চেষ্টা যে করিনি তা নয় , অনেক বার করেছি কিন্তু কোনদিন সাহস করে উঠতে পারিনি । দুর থেকে দেখে গেছি শুধু , সামনে পরে গেলে বোবার মত চুপ করে থাকতে হয়েছে । ক্লাস ৯ এর ভালেন্তাইন্স ডে তে একটা কার্ড কিনেছিলাম ওর জন্য, সেটা আজও আমার ফাইল এর ব্যাগটায় পরে আছে । একবার পিছু নিয়েছিলাম স্কুল ছুটির পর , ও বুঝতে পেরে পেছনে ঘুরে আমার দিকে তাকাতেই আমি এক দৌরে ফিরে এসেছিলাম । তার পর এই নিয়ে অনেক প্যাক খেয়েছি বন্ধু দের কাছে কিন্তু ওসব গায়ে লাগাইনি ।
সেদিন টা এখনো মনে আছে যেদিন বৃষ্টির জন্য তারাতারি ছুটি হয়েছিল , বাইরে তখনো খুব বৃষ্টি পরছে আর আমরা স্কুল এর গেটের সামনে দারিয়ে একটু কমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । পাশে ঘুরে দেখি ও আমার পাশে দারিয়ে , ঘুরতেই চোখাচুখি হতেই আমি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম । ও ডেকে বলেছিল " আমায় একটু তোর ছাতায় এগিয়ে দিবি ?" । কি বলব বুঝতে পারিনি , সুধু মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে এল " হ্যা , চল " । ওটাই প্রথম এবং শেষ কথা ওর সঙ্গে । কিন্তু ভগবানের মনে অন্য কিছু ছিলো বোধহয় , বৃষ্টিটা থিক তখনই থেমে গেছিলো । ও বেরিয়ে গিয়ে একবার পেছনে ঘুরে একটু হেসে হাথ নারিয়ে " বাই বাই " বলে চলে গেল । আমিও একবার হাথ নেরেছিলাম বোকার মতন এটুকু মনে আছে ।
সায়ন আমার কাধে একটু নারা দিতে আমার ঘোর ভাঙল ফিরে দেখি বিজায়া আমাদের সামনা সামনি চলে এসেছে । কি করব বুঝতে পারার আগে বিজায়া ই বলল :
- কিরে ? চিনতে পারছিস না ?
- হ্যা রে , তুই বিজায়া না ?
- মনে আছে তাহলে ! কি করিস এখন ?
- একটা IT Company তে কাজ করছি , পুনে তে । তুই কি করছিস ?
- বেকার মেয়ে , চাকরি খুজছি । দুটো বাচ্চা কে পরাই ,এই পরাতে যাচ্ছি ।
- শুনেছিলাম তোর বিয়ে হয়ে গেছে ! তোর বর টা কেমন ? ভাল আছে তো সবাই ?
দেখলাম ও মাথা নিচু করে নিয়েছে , মুখ টা ফেকাসে হয়ে গেছে । কারন টা বোঝার আগে ও আবার বলতে শুরু করল :
- সে আর নেই রে , বিয়ের ২ মাস পর মারা গেছে । Army তে ছিল ও ,৩ মাস আগে কাশ্মির এ জঙ্গি হামলায় ............।।
বলতে বলতে ওর চোখের কোনা থেকে জল বেরিয়ে এসেছে , সেটা সন্ধের হাল্কা আলোতেও বুঝতে পারলাম.........। আমার ই ভুল কপালে সিদুর নেই সেটা খেয়াল করা উচিত ছিল , এই সময় কি বলব জানা নেই সায়ন এর দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে । মনে একটু সাহস জুগিয়ে বললাম :
- Sorry রে , আমি ঠিক জানতাম না বেপার টা , মানে ...।
ও আমার মুখের কথা থামিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল
- আরে ঠিক আছে , সব এ আমার কপাল ।
আমি আর সাহস করে দারাতে পারলাম না ওই পরিস্তিথি তে । কি বলা উচিৎ জানিনা । আরও দু একটা কথা বলে বিদায় নিলাম । যাবার সময় মস্করা করে বলে গেল " কিরে ? আজ সঙ্গে ছাতা আনিসনি ? বৃষ্টি আসবে তো । বাই , পরে দেখা হবে "। স্কুল এর সেই কথা ওর মনে আছে ভেবে বেশ ভাল এ লাগলো আবার ওর পরিস্তিথি ভেবে খারাপ ও লাগছিল । তাকিয়ে রইলাম জতদুর পর্যন্ত ওকে দেখা যায় ।
যে হাসিখুশি মেয়েটাকে আমি চিনতাম তাকে আজ এরকম দেখতে হবে ভাবতে পারিনি । ভগবান যা করে মঙ্গলের জন্য করে সুনেছিলাম কিন্তু এখানে কি মঙ্গল , কার মঙ্গল বুঝতে পারিনি । সায়ন আমায় নারা দিয়ে বলল " চল এবার , ওদিক টা যাই " ।আমিও হাঠতে সুরু করলাম , কিন্তু সেদিন মনটা আর কিছুতেই ভাল হয়নি ।
এটা ছিল প্রায় ২ বছর আগের গল্প । আজ আমার বিয়ে গোধুলি লগ্নে , একটু পর এ বেরোতে হবে তাই যাবার আগে আমার গল্পটা লিখে গেলাম । ওই তো আমার বিয়ের কার্ডটা পরে আছে , বড় বড় করে লেখা
পরদিন বিকেল ৪ টে সায়নের বাড়ি হাজির হলাম । অনেক দিন পর দেখা , আমায় জরিয়ে ধরে বলল:
- কেমন আছিস ?
-এই ত দেখতেই পাচ্ছিস, চলে যাচ্ছে কোনো রকম ।
তারপর কিছুক্ষন এই কথা সেই কথা বলে আমরা বেরিয়ে পরলাম হাঠটে , হেটে ঘোরা টা আমাদের দুজনের এ পছন্দ । স্কুল থেকে বেরিয়ে ওরকম কত ঘুরেছি , রাস্তার মোর থেকে দেয়ালের ইট সবএ ছিল চেনা । সেই পুরনো গলি গুলো এখন একটু বদলেছে কিন্তু বেশির ভাগ টাই আগের মত । আমরা আমাদের স্কুল বেলার কথা গুলো মনে করে করে নিজেদের মাঝে হাসাহাসি । এখানে এই করেছি , ওখানে ওই করেছি এইসব গল্প ।
দিন গুলো কত তারাতারি কেটে গেল , এই সেদিন এ তো মাধ্যামিক দিলাম । এর মদ্ধে ৭ বছর যে কখন পেরিয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি ! এই তো সেদিন এ বাইক চালানো শিখতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলাম , এর মদ্ধে এতটা সময় যে পেরিয়ে গেছে টা আন্দাজ এ করা গেল না । এসব কথা ভাবতে ভাবতে হাটছি , সায়ন এর ডাকে ফিরে তাকালাম । দেখলাম সামনে গলির মুখে একটা চায়ের দোকান , ও সেই দিকে ইশারা করছে । অনেক দিন পর কলকাতার রাস্তায় মাটির ভারে চা , ব্যাপারটা একটু নষ্টালজিক টাই আমি মানা করিনি জদিও আমার চায়ের প্রতি কোনো ভালবাসা নেই । পাঞ্জাবির পকেট থেকে সিগারেট টা বার করে ধরিয়ে নিয়েছি ততক্ষনে ।
দোকানে টাকা মিটিয়ে সামনের গলিটায় ঢুকে দু পা হাঠার পর এ থমকে দারালাম , সামনে একটা মেয়ে ; " বিজায়া " । সময় টা একটু থেমে গিয়ে যেন আগের অনেক কথা মনে করিয়ে দিল । বিজায়াকে আমি স্কুল থেকে চিনি । শুধু চিনি বললে ভুল হবে , ও আমার শৈশবের প্রথম প্রেম । স্কুল এ খেলা বা সাহস এর জন্য বরাবর আমার নাম ছিল কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো দিন সাহস টা কাজে লাগেনি । চেষ্টা যে করিনি তা নয় , অনেক বার করেছি কিন্তু কোনদিন সাহস করে উঠতে পারিনি । দুর থেকে দেখে গেছি শুধু , সামনে পরে গেলে বোবার মত চুপ করে থাকতে হয়েছে । ক্লাস ৯ এর ভালেন্তাইন্স ডে তে একটা কার্ড কিনেছিলাম ওর জন্য, সেটা আজও আমার ফাইল এর ব্যাগটায় পরে আছে । একবার পিছু নিয়েছিলাম স্কুল ছুটির পর , ও বুঝতে পেরে পেছনে ঘুরে আমার দিকে তাকাতেই আমি এক দৌরে ফিরে এসেছিলাম । তার পর এই নিয়ে অনেক প্যাক খেয়েছি বন্ধু দের কাছে কিন্তু ওসব গায়ে লাগাইনি ।
সেদিন টা এখনো মনে আছে যেদিন বৃষ্টির জন্য তারাতারি ছুটি হয়েছিল , বাইরে তখনো খুব বৃষ্টি পরছে আর আমরা স্কুল এর গেটের সামনে দারিয়ে একটু কমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । পাশে ঘুরে দেখি ও আমার পাশে দারিয়ে , ঘুরতেই চোখাচুখি হতেই আমি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম । ও ডেকে বলেছিল " আমায় একটু তোর ছাতায় এগিয়ে দিবি ?" । কি বলব বুঝতে পারিনি , সুধু মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে এল " হ্যা , চল " । ওটাই প্রথম এবং শেষ কথা ওর সঙ্গে । কিন্তু ভগবানের মনে অন্য কিছু ছিলো বোধহয় , বৃষ্টিটা থিক তখনই থেমে গেছিলো । ও বেরিয়ে গিয়ে একবার পেছনে ঘুরে একটু হেসে হাথ নারিয়ে " বাই বাই " বলে চলে গেল । আমিও একবার হাথ নেরেছিলাম বোকার মতন এটুকু মনে আছে ।
সায়ন আমার কাধে একটু নারা দিতে আমার ঘোর ভাঙল ফিরে দেখি বিজায়া আমাদের সামনা সামনি চলে এসেছে । কি করব বুঝতে পারার আগে বিজায়া ই বলল :
- কিরে ? চিনতে পারছিস না ?
- হ্যা রে , তুই বিজায়া না ?
- মনে আছে তাহলে ! কি করিস এখন ?
- একটা IT Company তে কাজ করছি , পুনে তে । তুই কি করছিস ?
- বেকার মেয়ে , চাকরি খুজছি । দুটো বাচ্চা কে পরাই ,এই পরাতে যাচ্ছি ।
- শুনেছিলাম তোর বিয়ে হয়ে গেছে ! তোর বর টা কেমন ? ভাল আছে তো সবাই ?
দেখলাম ও মাথা নিচু করে নিয়েছে , মুখ টা ফেকাসে হয়ে গেছে । কারন টা বোঝার আগে ও আবার বলতে শুরু করল :
- সে আর নেই রে , বিয়ের ২ মাস পর মারা গেছে । Army তে ছিল ও ,৩ মাস আগে কাশ্মির এ জঙ্গি হামলায় ............।।
বলতে বলতে ওর চোখের কোনা থেকে জল বেরিয়ে এসেছে , সেটা সন্ধের হাল্কা আলোতেও বুঝতে পারলাম.........। আমার ই ভুল কপালে সিদুর নেই সেটা খেয়াল করা উচিত ছিল , এই সময় কি বলব জানা নেই সায়ন এর দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে । মনে একটু সাহস জুগিয়ে বললাম :
- Sorry রে , আমি ঠিক জানতাম না বেপার টা , মানে ...।
ও আমার মুখের কথা থামিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল
- আরে ঠিক আছে , সব এ আমার কপাল ।
আমি আর সাহস করে দারাতে পারলাম না ওই পরিস্তিথি তে । কি বলা উচিৎ জানিনা । আরও দু একটা কথা বলে বিদায় নিলাম । যাবার সময় মস্করা করে বলে গেল " কিরে ? আজ সঙ্গে ছাতা আনিসনি ? বৃষ্টি আসবে তো । বাই , পরে দেখা হবে "। স্কুল এর সেই কথা ওর মনে আছে ভেবে বেশ ভাল এ লাগলো আবার ওর পরিস্তিথি ভেবে খারাপ ও লাগছিল । তাকিয়ে রইলাম জতদুর পর্যন্ত ওকে দেখা যায় ।
যে হাসিখুশি মেয়েটাকে আমি চিনতাম তাকে আজ এরকম দেখতে হবে ভাবতে পারিনি । ভগবান যা করে মঙ্গলের জন্য করে সুনেছিলাম কিন্তু এখানে কি মঙ্গল , কার মঙ্গল বুঝতে পারিনি । সায়ন আমায় নারা দিয়ে বলল " চল এবার , ওদিক টা যাই " ।আমিও হাঠতে সুরু করলাম , কিন্তু সেদিন মনটা আর কিছুতেই ভাল হয়নি ।
এটা ছিল প্রায় ২ বছর আগের গল্প । আজ আমার বিয়ে গোধুলি লগ্নে , একটু পর এ বেরোতে হবে তাই যাবার আগে আমার গল্পটা লিখে গেলাম । ওই তো আমার বিয়ের কার্ডটা পরে আছে , বড় বড় করে লেখা
Subscribe to:
Posts (Atom)



